দশম শ্রেণী-ইতিহাস

Uncategorized
Wishlist Share
Share Course
Page Link
Share On Social Media

About Course

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) নির্ধারিত দশম শ্রেণীর ইতিহাস পাঠ্যক্রমটি মূলত ১৯শ ও ২০শ শতকের আধুনিক ভারতের ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এই কোর্সের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে যুক্তিবাদী সচেতনতা তৈরি করা এবং আধুনিক ভারতের গঠনে বিভিন্ন সংস্কার  আন্দোলনের ভূমিকা ব্যাখ্যা করা।

নিচে এই কোর্সের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ (Course Description) দেওয়া হলো:


📘 কোর্সের নাম: আধুনিক ভারত ও বিশ্ব (দশম শ্রেণী)

১. কোর্সের উদ্দেশ্য

  • আধুনিক ইতিহাসচর্চার নতুন পদ্ধতিগুলো বোঝা।

  • ব্রিটিশ শাসনকালে ভারতে শিক্ষা, সমাজ ও ধর্ম সংস্কারের বিবর্তন জানা।

  • ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও বিদ্রোহের কারণ বিশ্লেষণ করা।

  • ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উন্মেষ এবং স্বাধীনতার পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা লাভ।


২. অধ্যায় ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত রূপরেখা

অধ্যায়বিষয়বস্তু
১. ইতিহাসের ধারণাআধুনিক ইতিহাসচর্চার বৈচিত্র্য (খেলা, খাদ্য, পোশাক, পরিবেশ, নারী ইতিহাস) এবং ইন্টারনেটের ব্যবহার।
২. সংস্কার: বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা১৯শ শতকের বাংলার নবজাগরণ, পাশ্চাত্য শিক্ষার বিস্তার এবং রামমোহন, বিদ্যাসাগর ও বিবেকানন্দের ভূমিকা।
৩. প্রতিরোধ ও বিদ্রোহব্রিটিশ বিরোধী কৃষক ও উপজাতি বিদ্রোহ (সাঁওতাল, মুন্ডা, নীল বিদ্রোহ, কোল বিদ্রোহ)।
৪. সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ, আনন্দমঠ, বর্তমান ভারত ও ভারতমাতা চিত্রের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদের বিকাশ।
৫. বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগমুদ্রণ শিল্পের বিকাশ (ইউ. রায় অ্যান্ড সন্স), কারিগরি শিক্ষা (বি.টি.আই) এবং শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী ভাবনা।
৬. ২০শ শতকে কৃষক, শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলনঅসহযোগ, আইন অমান্য ও ভারত ছাড়ো আন্দোলনে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের অংশগ্রহণ।
৭. ২০শ শতকে নারী, ছাত্র ও প্রান্তিক গোষ্ঠীবিপ্লবী আন্দোলনে প্রীতিলতা, বীণা দাসদের ভূমিকা এবং দলিত রাজনীতি (গান্ধী-আম্বেদকর বিতর্ক)।
৮. উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারতদেশভাগ, উদ্বাস্তু সমস্যা এবং রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন (১৯৫৩)।

৩. শিখন পদ্ধতি ও মূল্যায়ন

  • পাঠদান: চার্ট, ম্যাপ (Map Pointing) এবং ছবির মাধ্যমে ঐতিহাসিক ঘটনার বিশ্লেষণ।

  • প্রজেক্ট (Anticlockwise): ১০ নম্বরের অন্তর্বর্তী প্রস্তুতিকালীন মূল্যায়ন (Project Work)।

  • লিখিত পরীক্ষা: ৯০ নম্বরের ফাইনাল পরীক্ষা (মাধ্যমিক), যেখানে MCQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ,4 নম্বরের প্রশ্ন এবং বড় প্রশ্ন (৮ নম্বর) থাকে।


৪. প্রয়োজনীয় দক্ষতা

এই কোর্সটি সম্পূর্ণ করলে শিক্ষার্থীরা ম্যাপ পয়েন্টিং, ঐতিহাসিক তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং ভারতের সংবিধান ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শিখবে।

Show More

What Will You Learn?

  • দশম শ্রেণীর ইতিহাস সকল অধ্যায়

Course Content

দশম শ্রেণী ইতিহাস -দ্বিতীয় অধ্যায়-সংস্কার ,বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা
ঊনবিংশ শতকের বাংলার নবজাগরণ এবং সমাজ সংস্কার আন্দোলনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।নিচে এই অধ্যায়ের একটি সংক্ষিপ্ত এবং গোছানো সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:অধ্যায় ২: সংস্কার: বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনাএই অধ্যায়ে মূলত তিনটি প্রধান দিক আলোচনা করা হয়েছে: সাময়িক পত্র ও সংবাদপত্র, শিক্ষা সংস্কার, এবং ধর্ম ও সমাজ সংস্কার।১. সাময়িক পত্র ও সংবাদপত্রের ভূমিকাঊনবিংশ শতকের জনমত গঠনে সংবাদপত্রের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।বামাবোধিনী পত্রিকা: উমেশচন্দ্র দত্ত সম্পাদিত এই পত্রিকা নারী জাগরণ ও নারী শিক্ষার প্রসারে প্রধান ভূমিকা নেয়।হিন্দু প্যাট্রিয়ট: হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত এই পত্রিকা নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল।হুতোম প্যাঁচার নকশা: কালীপ্রসন্ন সিংহের লেখা এই গ্রন্থে তৎকালীন কলকাতার বাবু সংস্কৃতির ব্যঙ্গাত্মক চিত্র ফুটে উঠেছে।নীলদর্পণ: দীনবন্ধু মিত্রের এই নাটকটি নীল চাষীদের দুর্দশা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে।২. শিক্ষা সংস্কার (প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য দ্বন্দ্ব)ভারতে কোন পদ্ধতিতে শিক্ষা দেওয়া হবে—প্রাচ্য (সংস্কৃত/আরবি) নাকি পাশ্চাত্য (ইংরেজি)—তা নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।মেকলে মিনিট (১৮৩৫): লর্ড মেকলের সুপারিশে ভারতে ইংরেজি শিক্ষাকে সরকারি নীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়।উডের ডেসপ্যাচ (১৮৫৪): একে ভারতীয় শিক্ষার 'ম্যাগনা কার্টা' বলা হয়। এর ভিত্তিতে কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়।নারী শিক্ষা: ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুন (বেথুন সাহেব) এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উদ্যোগে স্ত্রী শিক্ষার প্রসার ঘটে।৩. সমাজ সংস্কার আন্দোলনবাংলার মনীষীরা মধ্যযুগীয় কুসংস্কার দূর করতে এগিয়ে আসেন:রাজা রামমোহন রায়: তিনি সতীদাহ প্রথা রদ (১৮২৯) করার পেছনে প্রধান কারিগর ছিলেন এবং ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন।ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: তাঁর নিরলস প্রচেষ্টায় ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়।ডিরোজিও ও ইয়ং বেঙ্গল: হিন্দু কলেজের অধ্যাপক ডিরোজিওর নেতৃত্বে একদল তরুণ (নব্যবঙ্গ) প্রচলিত অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন।৪. ধর্ম সংস্কার ও নবজাগরণবিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী: ব্রাহ্মধর্মকে সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় করেন।শ্রী রামকৃষ্ণ: তাঁর 'যত মত তত পথ' আদর্শ সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দেয়।স্বামী বিবেকানন্দ: তিনি 'নব্য বেদান্ত' প্রচার করেন এবং ১৮৯৩ সালে শিকাগো ধর্মসম্মেলনে ভারতীয় সংস্কৃতির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন।উপসংহার: এই অধ্যায়ের মূল কথা হলো—পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাবে বাঙালির চিন্তাচেতনায় যে পরিবর্তন আসে, তাকেই ঐতিহাসিকরা 'বাংলার নবজাগরণ' বলে অভিহিত করেছেন।গুরুত্বপূর্ণ কিছু সাল ও ঘটনা:সালঘটনা১৮১৭হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠা (বর্তমানে প্রেসিডেন্সি)১৮২৯সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণ১৮৩৫কলকাতা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা১৮৫৬বিধবা বিবাহ আইন পাশ

দশম শ্রেণী ইতিহাস -তৃতীয় অধ্যায়-প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ :বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ
দশম শ্রেণীর ইতিহাসের তৃতীয় অধ্যায়: 'প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ: বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ' মূলত ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতের কৃষক এবং উপজাতি সম্প্রদায়ের বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের ইতিহাস।নিচে এই অধ্যায়ের একটি সহজবোধ্য সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:অধ্যায় ৩: প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ: বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে ক্ষমতা দখলের পর তাদের কঠোর ভূমিরাজস্ব নীতি এবং অরণ্য আইন প্রবর্তনের ফলে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে। এর ফলেই শুরু হয় বিভিন্ন বিদ্রোহ।১. বিদ্রোহ, অভ্যুত্থান ও বিপ্লব (সংজ্ঞা) বিদ্রোহ: প্রচলিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একদল মানুষের প্রতিবাদ (যেমন—নীল বিদ্রোহ)।অভ্যুত্থান: প্রচলিত শাসনব্যবস্থার আকস্মিক পরিবর্তন ঘটানোর চেষ্টা।বিপ্লব: প্রচলিত ব্যবস্থার দ্রুত ও আমূল পরিবর্তন (যেমন—ফরাসি বিপ্লব)।২. অরণ্য আইন ও উপজাতি বিদ্রোহ ব্রিটিশরা ১৮৬৫ ও ১৮৭৮ সালে অরণ্য আইন পাশ করে বনের ওপর আদিবাসীদের অধিকার কেড়ে নেয়। এর ফলে শুরু হয়:চুয়াড় বিদ্রোহ: মেদিনীপুর ও বাঁকুড়া জেলায় দুর্জন সিংহের নেতৃত্বে এই বিদ্রোহ হয়।কোল বিদ্রোহ: ছোটনাগপুর অঞ্চলে বুদ্ধু ভগত ও জোয়া ভগতের নেতৃত্বে ব্রিটিশ ও মহাজনদের বিরুদ্ধে এই লড়াই চলে।সাঁওতাল বিদ্রোহ (১৮৫৫): সিধু ও কানুর নেতৃত্বে এই বিদ্রোহ ছিল সবথেকে শক্তিশালী। এর ফলে 'সাঁওতাল পরগনা' জেলা গঠিত হয়।মুন্ডা বিদ্রোহ (১৮৯৯-১৯০০): বিরসা মুন্ডার নেতৃত্বে এই বিদ্রোহকে 'উলগুলান' (ভয়ংকর বিশৃঙ্খলা) বলা হয়। বিরসা নিজেকে ভগবানের দূত বলে ঘোষণা করেছিলেন।৩. কৃষক ও ধর্মীয় আন্দোলন কৃষকরা যখন জমিদার ও ব্রিটিশদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে, তখন তারা ধর্মের পতাকাতলে একত্রিত হয়:ওয়াহাবি আন্দোলন: ভারতে এর নেতা ছিলেন সৈয়দ আহমেদ। বাংলায় তিতুমীর চব্বিশ পরগনার বাঁশের কেল্লা তৈরি করে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন।ফরাজী আন্দোলন: হাজী শরিয়তউল্লাহ এই আন্দোলনের প্রবর্তক ছিলেন। পরে তাঁর পুত্র দুদু মিঞা একে শক্তিশালী করেন।সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহ: ব্রিটিশদের তীর্থকর আদায়ের প্রতিবাদে ভবানী পাঠক ও মজনু শাহর নেতৃত্বে এই বিদ্রোহ দীর্ঘকাল চলে।৪. নীল বিদ্রোহ (১৮৫৯-৬০) বাংলার ইতিহাসে নীল বিদ্রোহ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।কারণ: নীলকর সাহেবরা চাষীদের দাদন (অগ্রিম টাকা) দিয়ে জোর করে নীল চাষ করাত।নেতৃত্ব: দিগম্বর বিশ্বাস ও বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস।ফলাফল: ব্রিটিশ সরকার 'নীল কমিশন' গঠন করতে বাধ্য হয় এবং শেষ পর্যন্ত বাংলায় নীল চাষ বন্ধ হয়।৫. পাবনা বিদ্রোহ ১৮৭০-এর দশকে পূর্ববঙ্গের (বর্তমান বাংলাদেশ) পাবনায় ঈশানচন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে কৃষকরা জোটবদ্ধ হয়ে শোষক জমিদারদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে।অধ্যায়ের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ (এক নজরে): বিদ্রোহ প্রধান নেতা বৈশিষ্ট্য সাঁওতাল সিধু, কানু হুল (Hul) নামে পরিচিত। মুন্ডা বিরসা মুন্ডা উলগুলান (Ulghulan) নামে পরিচিত। নীল দিগম্বর ও বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজ সমর্থন করেছিল। ওয়াহাবি তিতুমীর বাঁশের কেল্লা (নারকেলবেড়িয়া)।

Student Ratings & Reviews

No Review Yet
No Review Yet
Scroll to Top