নবম শ্রেণী -ইতিহাস

Uncategorized
Wishlist Share

What Will You Learn?

  • নবম শ্রেণীর ইতিহাস - আধুনিক ইউরোপ ও বিশ্ব ইতিহাস

Course Content

নবম শ্রেণী -ইতিহাস । প্রথম অধ্যায় ,ফরাসি বিপ্লবের কয়েকটি দিক
ফরাসি বিপ্লব (১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দ) ছিল ইউরোপের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এটি শুধু ফ্রান্সের রাজনীতি নয়, সমগ্র বিশ্বের গণতান্ত্রিক চিন্তাধারায় গভীর প্রভাব ফেলে। 🔹 বিপ্লবের কারণ ১. সামাজিক বৈষম্য – ফরাসি সমাজ তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল: প্রথম শ্রেণি: যাজক দ্বিতীয় শ্রেণি: অভিজাত তৃতীয় শ্রেণি: সাধারণ মানুষ (কৃষক, শ্রমিক, মধ্যবিত্ত) প্রথম দুই শ্রেণি কর দিত না, কিন্তু তৃতীয় শ্রেণির উপর করের বোঝা ছিল বেশি। ২. অর্থনৈতিক সংকট – যুদ্ধ ও অপব্যয়ের ফলে রাজকোষ শূন্য হয়ে যায়। ৩. স্বৈরাচারী শাসন – Louis XVI জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিতেন না। ৪. দার্শনিকদের প্রভাব –-দার্শনিকদের চিন্তাধারা মানুষকে স্বাধীনতা ও সমতার ধারণা দেয়। 🔹 গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ১৪ জুলাই ১৭৮৯ – বাস্তিল দুর্গ আক্রমণ মানবাধিকার ঘোষণা – “মানব ও নাগরিক অধিকারের ঘোষণা” প্রকাশ রাজতন্ত্রের পতন – ১৭৯৩ সালে লুই ষোড়শের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর 🔹 বিপ্লবের ফলাফল রাজতন্ত্রের অবসান প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা “স্বাধীনতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব” আদর্শের প্রচার ইউরোপে গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের প্রসার ✍ উপসংহার ফরাসি বিপ্লব ছিল সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। এটি বিশ্ব ইতিহাসে গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করে এবং আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পথ প্রশস্ত করে।

নবম শ্রেণী -ইতিহাস । দ্বিতীয় অধ্যায় ,বিপ্লবী আদর্শ ,নেপোলিয়নের সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ
অধ্যায় সারাংশ: বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ এই অধ্যায়টি মূলত ফরাসি বিপ্লব পরবর্তী ইউরোপ এবং নেপোলিয়ন বোনাপার্টের উত্থান ও পতন নিয়ে আলোচনা । এর প্রধান দিকগুলি হলো: ১. নেপোলিয়নের উত্থান ও সংস্কার ফরাসি বিপ্লবের বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ক্ষমতায় আসেন। তিনি নিজেকে "বিপ্লবের সন্তান" বলতেন। তার সবচেয়ে বড় কীর্তি হলো 'কোড নেপোলিয়ন' (Code Napoleon) বা আইন বিধি, যা ইউরোপের বিচার ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনে। ২. নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও ইউরোপ নেপোলিয়ন একের পর এক যুদ্ধে (যেমন—অস্টারলিজের যুদ্ধ, ট্রাফালগারের যুদ্ধ) জয়লাভ করে প্রায় সমগ্র ইউরোপে ফরাসি আধিপত্য বিস্তার করেন। তিনি ইউরোপের মানচিত্র পরিবর্তন করে দেন এবং অনেক দেশে সামন্ততন্ত্রের অবসান ঘটান। ৩. মহাদেশীয় অবরোধ প্রথা (Continental System) ইংল্যান্ডকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার জন্য নেপোলিয়ন 'মহাদেশীয় অবরোধ প্রথা' জারি করেন। কিন্তু এই ব্যবস্থা সফল হয়নি, উল্টে এটি তার পতনের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ৪. জাতীয়তাবাদের উত্থান ও প্রতিরোধ ফরাসি শাসন অনেক দেশে শুরুতে মুক্তিদাতা হিসেবে গণ্য হলেও পরে তা শোষণে পরিণত হয়। এর ফলে জার্মানি, ইতালি এবং স্পেনে নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী চেতনার জাগরণ ঘটে। স্পেনের 'উপদ্বীপের যুদ্ধ' এবং রাশিয়ার 'মস্কো অভিযান' নেপোলিয়নের ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। ৫. নেপোলিয়নের পতন ১৮১৫ সালে ওয়াটারলুর যুদ্ধে নেপোলিয়ন চূড়ান্তভাবে পরাজিত হন। তাকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসিত করা হয়। তার পতনের পর ইউরোপের শক্তি সাম্য বজায় রাখতে 'ভিয়েনা সম্মেলন' অনুষ্ঠিত হয়। মূল শিক্ষা: নেপোলিয়ন একদিকে যেমন বিপ্লবের আদর্শ (সাম্য ও মৈত্রী) সারা ইউরোপে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন, অন্যদিকে তার সাম্রাজ্যবাদী আকাঙ্ক্ষা ইউরোপীয় দেশগুলির মধ্যে উগ্র জাতীয়তাবাদের জন্ম দিয়েছিল।

Student Ratings & Reviews

No Review Yet
No Review Yet
Scroll to Top